প্রকৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্যে সৃজিত, জ্ঞানের অনির্বাণ শিখায় প্রজ্জ্বলিত, বীর প্রসবিনী,গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে প্রোজ্জ্বল এক পূণ্য ভূমি "রাউজান"। ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে প্রশাসনিকভাবে রাউজান থানার কার্যক্রম শুরু হলেও মধ্য যুগের হামিদ আলী, নবীন চন্দ্র সেনের মতো প্রখ্যাত কবি কিংবা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্য সেনের মতো কালজয়ী মনিষীর কল্যানে এই রাউজান বহুকাল পূর্বেই ইতিহাসের স্বাক্ষী। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন,বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রাউজানের অকতোভয় বীর সেনানীদের রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উল্লেখযোগ্য অবদান। এছাড়াও মহান আধ্যাত্বিক সাধক,কবি-সাহিত্যিক,ইতিহাসবিদ, খ্যাতিমান রাজনীতিক,সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তবর্গের জন্মভূমি রাউজান।
স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে রাউজানে উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে নোয়াপাড়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই কলেজ যাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁদের মধ্যে প্রধানত দুই হৃদয়বান ব্যক্তি আলহাজ্ব মীর হোসেন সওদাগর ও আলহাজ্ব আলী আহমদ চৌধুরী। এই মহৎ কাজে আরো যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা হলেন সর্ব জনাব নিকুঞ্জবিহারী দাশ, এম. আব্দুল্লা, ডা: নওয়াব হোসেন, সিরাজুল হক ওয়ালী, মো: আব্দুল গণি, বি.কম শাহ আলম মজুমদার, আবু তাহের চৌধুরী, ইজাহারুল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ ইব্রাহীম, আবদুল ছোবান, ছালে আহম্মদ সওদাগর, আব্দুল মোনাফ সিদ্দিকী, এম. এ রব্বান, এজাহার মিয়া, আব্দুল আজিজ চৌধুরী, নুরুল হক মজুমদার, ছালে আহমদ, আব্দুল মালেক, হাজী আব্দুল আজিজ, আব্দুর রশিদ, মোঃ নুরুল হক, মোঃ এবাদুল্লাহ খান, শেখ আব্দুল শুক্কুর, হিমাংশু বিমল চক্রবর্তী, শশাঙ্ক মোহন রায়, মোঃ শফি চৌধুরী, এস.এম বাদশা, মোঃ নুরুল আলম, মোঃ হাবিব উল্লাহ, এম.এ মজিদ, মোঃ নওয়াব মিয়া, নজির আহমদ, আমির আলী, ছৈয়দুর রহমান এবং সুষমা রায় ও সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় তৎকালীন রাজার দিঘির পাড়ে নোয়াপাড়া কলেজ স্বগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষা বিস্তারে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে জ্ঞান অর্জনের বিশ্বস্ত আলয়ে।প্রতিবছর এখান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে জ্ঞান আহরণকারী তাদের আহরিত জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করছে সমাজকে।রাউজানের গন্ডী পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার শিক্ষার্থীরাও বেছে নিচ্ছে এ কলেজকে। কলেজের অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্বল্প পরিসর নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এ কলেজ এখন ডিগ্রি পাস, ডিগ্রি সম্মান ও বিএমটি কোর্সসহ পরিপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ কলেজের সার্বিক উন্নয়নে এলাকাবাসী, বিশিষ্টজন, শিক্ষাবীদ,দান বীর, ব্যবসায়ীসহ সময়ের ব্যবদানে অনেকের সহযোগিতা ও অবদান রয়েছে যা সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণযোগ্য। এলাকাবাসির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, রুচিশীল সৃষ্টিকর্ম ও সঠিক নির্দেশনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একটি দুতলা একাডেমিক ভবন, দুটি একতলা-দুতলা বিল্ডিংয়ের চার তলায় রূপান্তর, অডিটোরিয়াম প্রসস্থকরণ,চারতলা বিশিষ্ট আইসিটি ভবন,দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, আাঠারশ ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাঠ-পুকুরের চারপাশে গার্ড ওয়াল নির্মাণ,পাঁচ হাজারের অধিক ফলজ,বনজ,ভেসজ গাছ রোপণ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বৈঠক নির্মাণ ও আকর্ষণীয় পুকুর ঘাট নির্মাণের মাধ্যমে কলেজে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। তাঁদের সময়োচিত নির্দেশনা অনুসরণ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সার্বক্ষনিক তদারকি ও সর্বোচ্চ নিবেদিত ছিলেন কলেজের সমসাময়িক অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ জনাব কফিল উদ্দিন চৌধুরী। তিনি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতির স্বপ্নের মডেল কলেজ বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত সহযোগী। এছাড়াও কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অকৃত্রিম আন্তরিকায় তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এই সুন্দর কলেজ ক্যাম্পাস।সর্বোপরি, প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ, মানসম্মত পড়াশোনা ও নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্য বৃহত্তর চট্টগ্রামে নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ বর্তমানে সময়ের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
.প্রকৃতির চিরচারিত নিয়মে প্রত্যেকেই হারিয়ে যাবে। সময়ের করাল স্রোতে সবকিছু ভেসে যাবে, কিন্তু ঠিকে থাকবে শুধুই তার সৃষ্টিকর্ম।কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে,অক্ষয় হয়ে রবে চিরকাল। তাই, নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ যতদিন স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থাকবে ততদিন জ্ঞানের আলোক শিখায় আলোকিত করবে ত্রিভুবন, দূর করবে সমাজের অন্ধকারাচ্ছন্ন তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সামাজিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনে।